যুক্তরাষ্ট্রের গত গ্রীষ্মের প্রায় পুরো সময়ে ব্রাজিলসহ প্রধান রফতানিকারক দেশগুলো থেকে পণ্য আমদানিতে উচ্চ শুল্কহার আরোপ করা ছিল। এতে মার্কিন বাজারে দাম বেড়েছে কফির। যদিও কফির মতো বেশকিছু ভোক্তাপণ্যে আরোপিত আমদানি শুল্কহারের বেশিরভাগই গত মাসে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে ব্রোকার, ব্যবসায়ী ও শিল্পসংশ্লিষ্টরা জানান, শুল্ক প্রত্যাহার করা হলেও আগে মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সরবরাহ শৃঙ্খলে এরই মধ্যে ধাপে ধাপে ছড়িয়ে পড়েছে। তাই ভোক্তা পর্যায়ে এ সুফল পৌঁছতে আরো সময় প্রয়োজন। খবর রয়টার্স।
শিল্প বিশ্লেষকরা জানান, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে খুচরা পর্যায়ে কফির দাম বাড়ার প্রধান কারণ শুল্ক নয়, বরং গত বছরের কফি বিনের ঘাটতি। তিন মৌসুম ধরে প্রতিকূল আবহাওয়ায় উৎপাদন ঘাটতির কারণে গত মার্চ পর্যন্ত ১২ মাসে অপরিশোধিত কফি বিনের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়।
স্বতন্ত্র বিশ্লেষক ক্রিস্টোফার ফেরান বলেন, ‘এখন পর্যন্ত খুচরায় যেসব মূল্যবৃদ্ধি দেখা গেছে তার বেশিরভাগই শুল্কজনিত নয়। মূলত গত বছর থেকে চলমান কফির রেকর্ড সর্বোচ্চ দরের সঙ্গে এর সম্পর্ক রয়েছে।’
শিল্প বিশেষজ্ঞরা আরো জানান, অপরিশোধিত কফি বিনের দামের প্রভাব ভোক্তার কাছে পৌঁছতে অন্তত নয় মাস সময় লাগে। এর পেছনে রয়েছে রোস্টিং প্রক্রিয়া ও খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে মূল্য আলোচনা। ফলে ভোক্তা পর্যায়ে কফির দাম কমতে আগামী বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় কফি ভোক্তা দেশ যুক্তরাষ্ট্র। খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষের প্রেক্ষাপটে দেশটির নিউ জার্সি, নিউইয়র্ক ও ভার্জিনিয়ায় ডেমোক্র্যাটদের নির্বাচনী সাফল্যের চাপের মুখে ট্রাম্প গত মাসে রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ নীতিতে সংশোধন আনেন। এ শুল্ক ১০-৪১ শতাংশ পর্যন্ত ছিল এবং যুক্তরাষ্ট্রে সহজে উৎপাদনযোগ্য নয়, এমন ২০০টির বেশি খাদ্যপণ্যের ওপর আরোপ করা হয়েছিল, যার মধ্যে কফিও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
এছাড়া ব্রাজিল থেকে আমদানিতে অতিরিক্ত ৪০ শতাংশ শুল্ক থেকেও কফিকে অব্যাহতি দেয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবহৃত মোট কফি বিনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই আসে ব্রাজিল থেকে। প্রতি ব্যাগ (৬০ কেজি) রোস্টেড ও গ্রাউন্ড কফির উৎপাদন ব্যয়ের অন্তত ৪০ শতাংশই অপরিশোধিত কফি বিনের দাম। গত বছর তিন মৌসুমের উৎপাদন ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে না পারায় এ দামে বড় ধরনের ঊর্ধ্বগতি দেখা দেয়।